ঢাকার আশুলিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রোশ ও শত্রুতার জের ধরে ৫ বছরের শিশু আব্দুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সময় ঘরের ভেতরে শিশুর আর্তচিৎকার ঢাকা দিতে উচ্চশব্দে গান বাজিয়েছিলেন অভিযুক্ত ঘাতক সাইফুল ইসলাম (২৭)। পুলিশি হেফাজতে দ্বিতীয় দফার রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আসামি সাইফুল এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে আশুলিয়া থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম এই চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে গতকাল আদালতে উপস্থিত করা হলে আসামির ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট নিখোঁজের মাত্র ৩ ঘণ্টা পর আশুলিয়ার ভাদাইল পশ্চিমপাড়া এলাকার এক ভবনের ছাদ থেকে শহিদ মিয়ার ৫ বছরের সন্তান আব্দুর রহমানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধারের সময় শিশুটির গলায় লাল স্কচটেপ পেঁচানো, মুখের ভেতর পলিথিন ও চাল ঢোকানো এবং ইলাস্টিকের ফিতা দিয়ে দুই পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পায়। উক্ত ভবনেরই অন্য এক ভাড়াটিয়া সাইফুলকে রাতেই সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয় এবং তাঁর ঘর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত স্কচটেপ ও ইলাস্টিকের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, শিশুটির পিতা শহিদ মিয়ার সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে ক্ষুব্ধ হয়ে আসামি নিজ ঘরেই শিশুটিকে ডেকে এনে এই নির্মমতা চালায়। মৃত্যুর পর মৃতদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ভবনের ছাদে হাঁসের খামারের নেটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। হত্যার চলাকালীন শিশুটির বাবা সাইফুলের ঘরের দরজায় ধাক্কা দিলেও উচ্চশব্দে গান বাজিয়ে তিনি বাইরে অবস্থান বজায় রাখেন। তবে ঠিক কী কারণে শিশুটির বাবার সঙ্গে সাইফুলের এত তীব্র শত্রুতা তৈরি হয়েছিল, তা অনুসন্ধানে আরও গভীরভাবে কাজ করছে পুলিশ।

