ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের ঘোষিত রায়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার মা শিরিন আক্তার। রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অপরাধীদের বিচার পাওয়ায় তাঁর নিষ্পাপ মেয়ের আত্মা শান্তি পেয়েছে। তবে রায় পরবর্তী পরিস্থিতিতে পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সরকারের কাছে কার্যকর সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলাটির আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে গুরুত্বপূর্ণ এ সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও মূল অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। পাশাপাশি চারজন আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং অন্য ১০ জন আসামিকে অভিযোগ থেকে খালাস প্রদান করেন আদালত।
হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর সোনাগাজীর উত্তর চরচান্দিয়ায় নুসরাতের নিজ বাড়িতে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হন তাঁর মা। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত সিরাজ উদদৌলার কারণেই আমি আমার একমাত্র কন্যাসন্তানকে হারিয়েছি। আজ আদালতের রায়ে আমি সন্তুষ্ট, নুসরাতের আত্মা আজ শান্তি পেয়েছে।’ একমাত্র মেয়েকে ছাড়া বিগত বছরগুলো কতটা কষ্টের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন, তা ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি আরও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সন্তান হারানোর বেদনার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেন শিরিন আক্তার ও মামলার বাদী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। তাঁরা জানান, নিম্ন আদালতের রায়ের পর থেকেই আসামিপক্ষের স্বজনেরা তাঁদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমেও ক্রমাগত হুমকি বজায় রেখেছে। এ অবস্থায় নিজেদের জীবন ও বসতবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নুসরাতের স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সোনাগাজী মডেল থানা–পুলিশ ওই বাড়িতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং স্থানীয়ভাবে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

