প্রধান খবর

৪০ দিনের যুদ্ধের পর আরও উন্নত অস্ত্রের অধিকারী হয়েছে ইরান

 যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের পর ইরান আগের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত ও আধুনিক অস্ত্রের ভাণ্ডার অর্জন করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি)। আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন।

ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জেনারেল মোহেবি মনে করেন, ইরানের মতো দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে যুক্তিসংগত হবে না। তবে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ফায়দা বা কোনো অর্জন দেখাতে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে হামলার দুঃসাহস দেখাতে পারে-এমন আশঙ্কাও পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি। হুশিয়ারি উচ্চারণ করে মোহেবি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো আগ্রাসন চালানো হলে তেহরান তার অত্যন্ত শক্তিশালী ও কঠোর জবাব দেবে। এমনকি বিগত সময়ের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রকে এবার আরও বেশি যন্ত্রণাদায়ক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

আইআরজিসির মুখপাত্র দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে বিগত ৪০ দিনের ওই সংঘাতের সময় ইরান মূলত তাদের পুরোনো প্রজন্মের অস্ত্রশস্ত্র দিয়েই লড়াই পরিচালনা করেছিল। তবে সেই যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং পরবর্তী সময়ে দেশটির প্রতিরক্ষা খাত আরও উন্নত ও অত্যাধুনিক অস্ত্রের নাগাল পেয়েছে।

তবে ঠিক কী ধরনের নতুন অস্ত্র তেহরান অর্জন করেছে, সেগুলোর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা কত কিংবা এসব অস্ত্র কৌশলগতভাবে কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে-এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি এই সামরিক কর্মকর্তা। ফলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই দাবির স্বাধীন কোনো নিরপেক্ষ সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন সামরিক অভিযানের বাস্তব চিত্র নিয়ে দেশটির মূলধারার গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করেন হোসেইন মোহেবি। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের আসল সত্য ও বাস্তবতা মার্কিন জনগণের সামনে আড়াল করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি রয়েছে এবং কর্মকর্তারা একে অপরকে সহযোগিতা করছেন না-ওয়াশিংটনের এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। মোহেবি দাবি করেন, মূলত মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক ব্যর্থতা ও দুর্বলতা ঢাকতেই হোয়াইট হাউস ও ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকরা এ ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *