প্রধান খবর

তাজমিন হত্যাকাণ্ড:  কথিত প্রেমিক রাজুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

 কুমিল্লায় বহুচর্চিত স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা কথিত প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন রাজুর বিরুদ্ধে এবার নতুন করে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। কক্সবাজারের আইনজীবী মোহাম্মদ রাশেদ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এই আবেদন করেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে করা ওই আবেদনের শুনানির পর অভিযোগটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করতে কক্সবাজার সদর থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইরফানুল হক চৌধুরীর আদালতে শুনানি শেষে আইনজীবী রাশেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি আদালতকে অবহিত করেন, রাজুই মূলত মিথ্যা প্রলোভন ও প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাজমিনকে ফুসলিয়ে কক্সবাজারে নিয়ে আসে এবং তাকে ধর্ষণ করে। একই সঙ্গে তাজমিনের অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বিষয়টিও আদালতের নজরে আনেন তিনি। জবানবন্দি ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর বিচারক মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

মামলাটির বাদী আইনজীবী রাশেদ বলেন, রাজু যদি তাজমিনকে ফুসলিয়ে কক্সবাজারে না নিয়ে আসত, তবে কুমিল্লায় ফেরার পথে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না। একজন কিশোরীকে মিথ্যা ভালোবাসার অভিনয় করে এনে যে অন্যায় ও অপরাধ করা হয়েছে, তাতে বিবেক ও হৃদয়ের তাড়না থেকেই তিনি আইনগত পদক্ষেপে এগিয়ে এসেছেন বলে জানান। আদালতের এই নির্দেশের ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা রেকর্ড হওয়ায় আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পথ উন্মুক্ত হলো।

এদিকে, তাজমিন হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই নতুন নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। এর আগে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে রাজুকে আটক করে সদর মডেল থানা পুলিশ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল কক্সবাজারে পৌঁছায়। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাজুকে কুমিল্লায় হস্তান্তরের বিষয়ে কিছু আইনি আইনি জটিলতা দেখা দেয়।

কুমিল্লা পুলিশ শুরুতেই আসামিকে নিজেদের জিম্মায় নিতে অনীহা প্রকাশ করায় শেষ পর্যন্ত তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে বিচারকের আদেশে রাজুকে কারাগারে পাঠানো হলেও এখন কক্সবাজারে দায়ের হওয়া নতুন ধর্ষণ মামলার ভিত্তিতে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *