‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’-অমর এই গান ও চিরসবুজ পঙক্তির স্রষ্টা, তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৭০তম জন্মবার্ষিকী আজ ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার)। বাংলাদেশের কবিতায় অবিস্মরণীয় এই কবি তার শিল্পমগ্ন উচ্চারণ ও দ্রোহের সুর দিয়ে সত্তরের দশকের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। স্বল্পায়ু এই কবি ১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে যান। তবে তার সৃষ্টি ও আদর্শ আজও তরুণের মনে আলোড়ন তোলে। তাঁর অনন্য সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৪ সালে তাকে মরণোত্তর ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করা হয়।
অকালপ্রয়াত এই কবি নিজেকে সবসময় আপামর নির্যাতিত ও শোষিত মানুষের আত্মার সঙ্গে মিশিয়ে নিয়েছিলেন। সাম্যবাদ, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ঐতিহ্যচেতনা এবং অসাম্প্রদায়িক বোধে উজ্জ্বল ছিল তার প্রতিটি সৃষ্টি। ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন’—এই নির্মম ও চিরন্তন সত্য যেমন তিনি সাহসের সঙ্গে অবলোকন করেছেন, তেমনই উচ্চারণ করেছেন অবিনাশী স্বপ্ন—‘দিন আসবেই দিন সমতার’। যাবতীয় অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে তার আপসহীন অবস্থান তাকে পরিণত করেছে তারুণ্যের দীপ্র প্রতীকে। একই সঙ্গে তার কাব্যের অপর প্রান্ত জুড়ে রয়েছে প্রেম, স্বপ্ন ও সুন্দরের এক গভীর মগ্নতা।
মাত্র ৩৫ বছরের (১৯৫৬-১৯৯১) সংক্ষিপ্ত জীবনে তিনি সাতটি মৌলিক কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং কালজয়ী গান ‘ভালো আছি ভালো থেকো’সহ অর্ধশতাধিক গান রচনা ও তাতে সুরারোপ করেছেন। দুই বাংলায় অসম্ভব জনপ্রিয় এই গানটি তিনি ১৯৮৭ সালে মোংলায় বসে রচনা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে এই গানের জন্যই তিনি ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন। এ ছাড়া ‘উপদ্রুত উপকূল’ ও ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থ দুটির জন্য ‘সংস্কৃতি সংসদ’ থেকে তিনি পরপর দু’বছর ‘মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার’ লাভ করেন। জীবদ্দশায় তিনি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলন বেগবান করতে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

