মাদারীপুরের শিবচরে শাম্পা খাতুন (২৮) নামে এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় তার এক বছর বয়সী নিষ্পাপ শিশু আবিরকেও নির্মমভাবে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলল। মর্মান্তিক এই ঘটনার পাঁচ দিন পর সোমবার সকালে আড়িয়াল খাঁ নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় ওই শিশুটির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে উপজেলার নিলখী এলাকার মন্নান হাজীর মোড়সংলগ্ন মাদ্রাসা ঘাটে আড়িয়াল খাঁ নদীতে এক শিশুর লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে শিবচর থানা ও নৌ-পুলিশ যৌথভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এর আগে গত ১৯ আগস্ট মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকার ঝোপঝাড়ের পাশ থেকে নাটোরের মেয়ে ও মাদারীপুরের ঘরণী শাম্পা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
ঘটনার পর নিহত নারীর বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করলে তদন্তে নামে পুলিশ ও র্যাব-৮। যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত ফারুক মোল্লাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক ফারুক স্বীকার করে যে, শাম্পা খাতুনকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করে সে। শুধু তাই নয়, নিজের অপকর্ম লুকানো ও পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে শাম্পার সাথে থাকা এক বছরের অবুঝ শিশু আবিরকেও নির্মমভাবে হত্যা করে আড়িয়াল খাঁ নদীতে ভাসিয়ে দেয় সে।
মায়ের বর্বর হত্যাকাণ্ডের পর এক বছরের দুগ্ধপোষ্য শিশুকেও এভাবে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনা প্রকাশ পাওয়ায় পুরো মাদারীপুরে তীব্র ক্ষোভ, আতঙ্ক ও শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত আসামির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

