২০২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ২০ হাজারের বেশি সদস্য যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তবে ইতিবাচক বিষয় হলো, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার সরকারি অভিযোগের সংখ্যা এবং সম্ভাব্য মোট ঘটনার হার-দুটিই লক্ষ্যণীয়ভাবে কমেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে যৌন নিপীড়নের প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণে প্রতি দুই বছর পরপর একটি গোপন ও বেনামি জরিপ পরিচালনা করা হয়। ২০২৫ অর্থবছরের এই জরিপে দেখা গেছে, সক্রিয় দায়িত্বে থাকা নারী সামরিক সদস্যদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণের শিকার হওয়ার হার কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে, যা ২০২৩ সালে ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ছিল ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। একইভাবে পুরুষ সদস্যদের ক্ষেত্রেও এই হার কমে ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে; যা ২০২৩ সালে ছিল ১ দশমিক ৩ শতাংশ। এর মাধ্যমে মার্কিন বাহিনীতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো যৌন নিপীড়নের সার্বিক প্রবণতা কমার চিত্র ফুটে উঠেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ অর্থবছরে পেন্টাগনে যৌন নিপীড়নের মোট ৭ হাজার ৯৯৮টি সরকারি অভিযোগ জমা পড়েছে, যেখানে সামরিক সদস্যরা ভুক্তভোগী কিংবা অভিযুক্ত হিসেবে জড়িত ছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালে এ অভিযোগের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ১৯৫টি এবং ২০২৩ সালে ছিল ৮ হাজার ৫১৫টি। ঘটনার সংখ্যা কমলেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ জানানোর প্রবণতা বেড়েছে। ২০২৩ সালে আক্রান্তদের মাত্র ২৫ শতাংশ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
পেন্টাগনের তথ্যমতে, ২০২৫ অর্থবছরে আনুমানিক ২০ হাজার ৪৯২ জন সদস্য যৌন নিপীড়নের শিকার হন, যার মধ্যে ৬ হাজার ৮৪৩ জন আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেন। আন্ডার সেক্রেটারি অ্যান্থনি জে টাটা জানিয়েছেন, মর্যাদা ও শৃঙ্খলা সামরিক বাহিনীর মূল ভিত্তি; আর যৌন নিপীড়ন এসব মূল্যবোধ ও যুদ্ধের সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ভুক্তভোগীরা যাতে নির্ভয়ে চিকিৎসার সুবিধা পান এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা যায়, সে উদ্দেশ্যে অভিযোগ প্রথাকে আরও সহজ করার ওপর জোর দিচ্ছে পেন্টাগন।

