ম্যাকাই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৬৪ রানে প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গেছে টাইগাররা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একাই ৬ উইকেট শিকার করেছেন বাঁহাতি এই পেসার।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরু থেকেই স্টার্কের গতিময় ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে একের পর এক ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন। মাত্র ৬.৪ ওভারের মধ্যেই ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা।
ইনিংসের প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ক্যামেরন গ্রিনের ক্যাচে পরিণত করেন স্টার্ক। পরের ওভারে টানা দুই বলে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে ফেরান তিনি। বাংলাদেশের প্রথম তিন ব্যাটারই রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন। এরপর মুমিনুল হককে ৯ রানে এবং লিটন দাসকে শূন্য রানে ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন স্টার্ক।
মাত্র চার রান খরচ করে চার ওভার বোলিং করেই পাঁচ উইকেট তুলে নেন অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার। এর আগে জ্যামাইকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও মাত্র ১৫ বলে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছিলেন তিনি।
দলের বিপর্যয়ের মধ্যেও কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন মুশফিকুর রহিম। তবে ৪২ বল মোকাবিলা করে মাত্র ৫ রান করে ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে আউট হন তিনি। মুশফিকের বিদায়ের সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২১ রানে ৬ উইকেট।
এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের ব্যাটে প্রথম সেশন শেষ করে বাংলাদেশ। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যাওয়ার সময় ২৩ ওভারে ৬ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩৫ রান। মিরাজ ১১ এবং হাসান ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। এতে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন ২৬ রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কা আপাতত এড়ায় দলটি।
দ্বিতীয় সেশনে বল হাতে ফিরে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স এই জুটি ভেঙে দেন। ১১ রানে মেহেদী হাসান মিরাজ বেউ ওয়েবস্টারের ক্যাচে পরিণত হন। এরপর জশ হ্যাজেলউডের বলে নাথান লায়নের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১০ রানে ফেরেন হাসান মাহমুদ।
এরপর তাসকিন আহমেদকে ফিরিয়ে নিজের তৃতীয় উইকেট তুলে নেন কামিন্স। ম্যাথু রেনশর ক্যাচে পরিণত হয়ে মাত্র ১ রানেই থামেন বাংলাদেশের এই পেসার।
৩৯ রানে নবম উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার আশঙ্কা আবারও দেখা দেয়। তবে তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম শেষদিকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে সেই লজ্জা এড়ান। ৩০তম ওভারের শেষ বলে হ্যাজেলউডকে চার মেরে দলের রান বাড়ান তাইজুল।
১১ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে শরিফুল ইসলাম দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন। তাইজুল ইসলামের সঙ্গে তিনি ৩৫ বলে ২৫ রানের জুটি গড়েন, যা বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের জুটি।
শেষ পর্যন্ত শরিফুলকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন স্টার্ক। তাইজুল ইসলাম ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। ১০ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ একাই ধসিয়ে দেন স্টার্ক।
বাংলাদেশের জন্য ম্যাকাই টেস্টের শুরুটা তাই হতাশাজনক হলেও অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের বিপক্ষে পরবর্তী ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ায় ম্যাচে বড় চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়েছে সফরকারীরা।

