ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফুলবাড়িয়া এলাকায় ‘প্রয়াস মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র’-এ চিকিৎসাধীন ফুরকান মিয়া (২৫) নামে এক কাতারপ্রবাসী যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহতের স্বজনদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, নিরাময় কেন্দ্রের ভেতরে তাঁকে নির্মম নির্যাতন করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে এ ঘটনার পরপরই চরম আতঙ্কে কেন্দ্রটি থেকে চিকিৎসাধীন বেশ কয়েকজন রোগী পালিয়ে যান এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
নিহত ফুরকান মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুঁড়িঘর গ্রামের রশিদ মিয়ার ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাদকাসক্তি দূরীকরণের উদ্দেশ্যে গত ১৩ আগস্ট রাতে ফুরকানকে ওই নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। নিহতের স্বজনদের দাবি, ঘটনার দিন রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফুরকানের গলায় ও ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। স্বজনদের না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে নেওয়ার নাটক সাজিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
তবে যাবতীয় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে প্রয়াস কেন্দ্রের ইনচার্জ প্রমোদ জানান, বাথরুমে পড়ে গিয়ে ফুরকান অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে। ঘটনার পর থেকে কেন্দ্রটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা গা ঢাকা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আতঙ্কে রোগী পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে পুরো শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হস্তগত হওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

