ইরানের সঙ্গে চলমান তীব্র সামরিক সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ‘ভূখণ্ড’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার অন্যায্য ও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিউইয়র্কে আয়োজিত এক জনসভায় ভাষণে ট্রাম্প বলেন, চলমান যুদ্ধে ইরানকে পরাজিত করার পরপরই খুব দ্রুত এই কৌশলগত আন্তর্জাতিক জলপথটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে। বৈশ্বিক জ্বালানি ও অর্থনীতিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই প্রণালিটি বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও রাসায়নিক সার সরবরাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক সংঘাতের জবাবে ইরানও হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে নানা কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। উল্লেখ্য, সংঘাত শুরুর আগে সমগ্র বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি দিয়েই সমুদ্রপথে পরিবাহিত হতো। এর আগে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মুখে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অস্থিরতা ও অস্বস্তিকর পরিবেশ অব্যাহত রয়েছে। তেহরান দাবি করছে, প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ অংশবিশেষ তাদের নিজস্ব ভৌগোলিক জলসীমার অন্তর্গত হওয়ায় এতে সর্বভৌমত্ব ও নিয়ন্ত্রণের অধিকার কেবল তাদেরই। অন্যদিকে প্রণালিতে অভেদ্য অবরুদ্ধ করার দাবি জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা পুরো বিশ্ব অর্থনীতির জন্যই কল্যাণকর।
ট্রাম্পের এই উসকানিমূলক বক্তব্যের পরপরই কড়া ও তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, কোনো সামাজিক পোস্ট, বিমানবাহী রণতরী, নির্বাহী আদেশ কিংবা নির্বাচনি ফাফরবাজি দিয়ে হরমুজ প্রণালি দখল করা সম্ভব নয় এবং মার্কিন শক্তি প্রদর্শনে ইরান ভয় পায় না। ট্রাম্প পূর্বের মতো বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ বিশেষ টোল আদায়ের প্রস্তাব দিলেও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা একে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই জাতীয় সীমানা সম্প্রসারণের নীতি পোষণ করে আসা ট্রাম্প অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগে ইরানকে কোণঠাসা করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই প্রেক্ষাপটে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও দুর্বল করতে শিগগিরই অতিরিক্ত কিছু নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

