প্রধান খবর

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা : নিহত ৭

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও কৌশলগত অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অব্যাহত ভয়াবহ বিমান ও স্থল হামলায় অন্তত ৭ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। নির্মম এই হামলায় গুরুতর আঘাত পেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও অন্তত ৩ জন। শনিবার (১৫ আগস্ট) লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) এবং দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ যৌথভাবে এ ভয়াবহ হামলার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছে।

এনএনএ-এর প্রকাশিত বিস্তারিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ভোরের দিকে ইসরায়েলি পদাতিক সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিন্ত জবেইল শহর এবং এর আশপাশের বেশ কয়েকটি সীমান্ত গ্রামে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মৌলিক অবকাঠামো ও পারিবারিক সামগ্রী পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে চলেছে। প্রতক্ষ্যদর্শী ও স্থানীয় অধিবাসীদের বরাতে জানানো হয়, দখলদার সেনারা শহরটির বেশ কিছু আবাসিক বাড়িঘর সরাসরি ডিনামাইট ও নিয়ন্ত্রিত শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে। একইসঙ্গে কুনিন-সাফ আল-হাওয়া প্রধান সড়কসংলগ্ন জনবহুল এলাকাগুলো লক্ষ্য করে সেনাবাহিনী ভারী মেশিনগান দিয়ে নির্বিচারে তীব্র গুলি বর্ষণ অব্যাহত রাখে।

এর আগে মধ্যরাতের ঠিক কিছুক্ষণ পূর্বে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো টায়ার জেলার অন্তর্গত আল-মানসুরি শহরের আল-মাশা এলাকায়ও বেশ কয়েকটি তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা পরিচালনা করে। পরবর্তীতে ভোরের আলো ফোটার পরপরই নাবাতিয়েহ জেলার আনসারের উপকণ্ঠ এবং নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার আশপাশের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী নতুন করে ভারী বোমারু হামলা চালায়।

লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আনসার শহরের একটি জনবহুল স্থানে সরাসরি ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে ঘটনাস্থলেই সাত জনের করুণ মৃত্যু ঘটে। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা জানান, ধসে পড়া ঘরবাড়ির বিশাল ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন। ফলে উদ্ধার অভিযান একটানা তড়িঘড়ি করে পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে তাদের দেওয়া তথ্যমতে এটি একেবারেই প্রাথমিক হিসাব এবং ব্যাপক ধ্বংসস্তূপের নিচে তল্লাশি অভিযান সমাপ্ত হলে নিহতের সংখ্যা আরও বহুগুণ বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়মিত এ ধরনের তাণ্ডব সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে ভয়াবহ মানবিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *