নেপালে প্রলয়ংকরী বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসের কয়েক দিন পরও উপদ্রুত এলাকাগুলোতে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুনামির মতো ধেয়ে আসা কাদা-পানির প্রবল স্রোতে দেশটির বেশ কয়েকটি গ্রাম মুহূর্তের মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৩ হাজারে। পাহাড়ি নদীর তীব্র স্রোতে বেশ কিছু মরদেহ ভেসে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী ভারতে চলে গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিখোঁজের তালিকায় নতুন করে ৯৩৩ জন জলবিদ্যুৎ কর্মীর নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। পাশাপাশি তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রায় যাওয়া বিদেশি নাগরিকসহ সহস্রাধিক পর্যটক ও স্থানীয় অধিবাসীর কোনো সন্ধান মিলছে না। সরকার জানিয়েছে, প্রায় ১ হাজার ৯২৪ জন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচ শতাধিক বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। বিপর্যয় থেকে যারা বেঁচে ফিরেছেন, তারা সর্বস্ব হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
দুর্যোগকবলিত অঞ্চলে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট চরম রূপ নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নেপালি সেনাবাহিনী ত্রিশূলী-৩ ‘এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি পাহাড়ি সুড়ঙ্গে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করছে। ধ্বংসাবশেষ ও কাদার কারণে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ায় সেনার হেলিকপ্টার পাঠালেও উদ্ধারকাজ বারবার ব্যাহত হচ্ছে। সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে ৩৫০ জন শ্রমিককে নিরাপদে সরিয়ে আনতে পারলেও এখনো সেখানে শতাধিক মানুষ আটকা পড়ে আছেন।
বর্তমানে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানোর মধ্যেই পাহাড়ি বরফ ও কাদা জমে তৈরি হওয়া জলাধার থেকে নতুন করে প্লাবনের মারাত্মক শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে তিব্বত প্রান্তে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়ার পর নেপাল পুলিশ সেখানে অবস্থানরত সকল উদ্ধারকর্মীকে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আকস্মিক নির্দেশ জারি করেছে।
রেড ক্রসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ৯৩ হাজার মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাহাড়ি সড়ক ধসে পড়া এবং যোগাযোগ অবকাঠামো বিচ্ছিন্ন থাকায় দুর্গম অঞ্চলগুলোতে জরুরি ওষুধ ও খাদ্য সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সময় গড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের আশা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে, যার ফলে চূড়ান্ত মৃতের সংখ্যা আরও বহু গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।

