রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামির স্বজনদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। প্রধান আসামিদের একজন সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস এবং ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রংপুর মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২২ আগস্ট নিজ বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬০), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং ১২ বছর বয়সী ছোট ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই পরিবারের চার সদস্যকে বর্বরোচিতভাবে হত্যার এ ঘটনায় ২৩ আগস্ট নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের দিন ভোরেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামের দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর রাতেই তারা বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করে। পরবর্তীতে তাদের বন্ধু সীমান্ত আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিলে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে নতুন মোড় নেয়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের সংঘটিত হওয়ার রাতে আসামিরা একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করেছিলেন।
রংপুরে শিক্ষক পরিবারকে ঘিরে এই গণহত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুরো নগরজুড়ে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ডিবির হেফাজতে আনা আসামির বাবা ও ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ বা সহযোগীদের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

