যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের বিরুদ্ধে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ ও প্রয়াত মাওবাদী নেতা কিষেনজির সমর্থনে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যাদবপুর ৮ নম্বর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এক জনসভায় তিনি বলেন, বাংলায় বসে এই ধরনের দেশবিরোধী স্লোগান শোনা অত্যন্ত পীড়াদায়ক। ‘কীসের স্বাধীনতা চাইছেন আপনারা? মাদক সেবনের স্বাধীনতা, না কি দেশকে টুকরো করতে চাওয়া শক্তির শরিক হওয়ার স্বাধীনতা?’-সমাবেশে উপস্থিত তরুণদের উদ্দেশ্যে সরাসরি এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি।
বক্তব্যে বিরোধী দলনেতা স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার কালজয়ী বীর বিপ্লবীদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান না তুলে ভারতের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) ফিরিয়ে আনার দাবিতে সোচ্চার হওয়া উচিত। পহেলগামে জঙ্গি হামলা এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, দেশের সুরক্ষায় সেনা অভিযানের পরই তথাকথিত একদল মানুষ শান্তির নামে পথে নেমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ, বামপন্থী চরমপন্থা ও মাদকাসক্তি বন্ধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন এই বিজেপি নেতা। ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্যে ক্যাম্পাস ও হস্টেলগুলোতে কঠোর নজরদারি চালানো এবং অননুমোদিতভাবে অবস্থান করা প্রাক্তন ছাত্রদের দ্রুত উচ্ছেদের দাবি জানান তিনি। এ ছাড়া শৃঙ্খলা ফেরাতে ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-কে ক্যাম্পাসে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে ভবানীপুরের এক অনুষ্ঠানেও তিনি শিয়ালদহ থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের ভয় দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন।
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জাতীয়তাবাদ ও সামরিক মানসিকতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্কুল-কলেজে ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (NCC) প্রশিক্ষণ আরও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত বা বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে সরকারের বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন শুভেন্দু অধিকারী। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি ইসরায়েলের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মডেল তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’ গানের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি এটিকে যেকোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে রাখার তাগিদ দেন।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপট নিয়ে পূর্ববর্তী বামফ্রন্ট ও বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকেও একহাত নেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, উভয় সরকারই নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ক্যাম্পাসে এমন দেশবিরোধী সংস্কৃতিকে বছরের পর বছর ধরে প্রশ্রয় দিয়ে এসেছে। তবে বিরোধী দলনেতার এই সুর চড়ানো বক্তব্যের বিপরীতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠন কিংবা রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

