ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় একই দিনে তিন শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সমগ্র এলাকায় গভীর উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এই তিন শিশুর সন্ধান না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাদের স্বজনেরা। শিশুগুলোর হঠাৎ এভাবে হাওয়া হয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যেও একধরনের আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।
নিখোঁজ শিশুদের মধ্যে দুজন স্থানীয় একটি খেলার মাঠ থেকে এবং অন্যজন রাজধানী ঢাকার একটি মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ শিশুরা হলো—উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. নাজিমুদ্দিন মঞ্জুর ছেলে মো. জুনায়েদ (১২), একই এলাকার মো. নাজিমুদ্দিনের ছেলে আরাফাত (১২) এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কামালের ছেলে হাবিবুর রহমান (১৩)।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজার কলেজ মাঠে প্রতিদিনের মতোই খেলতে যায় ১২ বছর বয়সী জুনায়েদ ও আরাফাত। কিন্তু খেলা শেষে সন্ধ্যা নেমে এলেও তারা আর ঘরে ফেরেনি। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তারা ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান মেলাতে পারেননি স্বজনেরা। জুনায়েদের বাবা জানান, তারা সম্ভাব্য সব জায়গায় সন্ধান চালিয়েছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো দিশা পাননি।
অন্যদিকে, ঢাকার যাত্রাবাড়ীর মুরাদপুর এলাকার ‘মাদরাসাতুল দারুল কোরআন’-এ পড়াশোনা করা হাবিবুর রহমান নামে অপর শিশুটিও একই দিনে নিখোঁজ হয়। শিশুটির বাবা জানান, গতকাল মাগরিবের নামাজ আদায় করতে গিয়ে সে আর মাদ্রাসায় ফিরে আসেনি। সহপাঠী ও পরিচিতদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তার কোনো তথ্য মেলেনি।
একই দিনে একই এলাকার তিনটি শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, শিশু নিখোঁজের ঘটনায় এখনো কোনো অভিভাবক থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেননি। তা সত্ত্বেও বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।
হতাশ ও উদ্বিগ্ন স্বজনেরা নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান পেতে সর্বসাধারণের সহায়তা কামনা করেছেন। কোনো সদয় ব্যক্তি এই শিশুদের সন্ধান পেলে নিকটস্থ থানায় অথবা তাদের পরিবারের সঙ্গে অতিসত্বর যোগাযোগ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।

