প্রধান খবর

সাপ মারতে বাংলাদেশ থেকে বেজি এনে মহাবিপদে জাপান

মারাত্মক বিষধর সাপের উপদ্রব কমাতে বাংলাদেশ থেকে বেজি এনে চরম পরিবেশগত বিপদের মুখে পড়েছিল পূর্ব এশিয়ার দেশ জাপান। দেশটির আমামি ওশিমা দ্বীপে ক্ষতিকর সাপের বিস্তার রোধের এই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ে রূপ নেয়। দীর্ঘ ৪৫ বছরের আপ্রাণ চেষ্টা এবং প্রায় ২৯০ কোটি টাকা ব্যয়ের পর অবশেষে দ্বীপটিকে পুরোপুরি বেজিমুক্ত ঘোষণা করতে সক্ষম হয়েছে দেশটির সরকার।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ থেকে জানা যায়, ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে জাপানের আমামি ওশিমা দ্বীপে ‘হাবু’ নামের বিষধর পিট ভাইপার সাপের কামড়ে অন্তত দুই হাজার ৬৭৩ জন মানুষ আক্রান্ত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সাপের উপদ্রব কমাতে ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ থেকে আগে ওকিনাওয়ায় নেওয়া বেজির বংশধর থেকে ৩০টি বেজি ওই দ্বীপে নিয়ে আসা হয়। চিন্তাভাবনা করা হয়েছিল যে, বেজিগুলো সহজেই বিষধর হাবু সাপ শিকার করে দ্বীপবাসীকে রক্ষা করবে।

তবে কর্তৃপক্ষের সেই পরিকল্পনা সম্পূর্ণ হিতে বিপরীত হয় এক বাস্তবতার কারণে। মূলত হাবু সাপ একটি নিশাচর প্রাণী, অন্যদিকে বেজি দিনের বেলা বিচরণ করে ও শিকার ধরে। সময়ের এই বিপরীতমুখী আচরণের কারণে দ্বীপে সাপের সঙ্গে বেজির দেখা হওয়ার সুযোগ ছিল অত্যন্ত কম। ফলে হাবু সাপ শিকারের বদলে দিনের বেলা সক্রিয় থাকা দ্বীপটির অতি দুর্লভ ও বিপন্ন ‘আমামি খরগোশ’সহ অন্যান্য বিরল বন্যপ্রাণীদের হত্যা করতে শুরু করে বেজিগুলো। প্রাকৃতিক শিকারি না থাকা এবং খাদ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে ২০০০ সালের মধ্যে ওই ৩০টি বেজির সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছে যায়।

পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে ২০০০ সাল থেকে জাপান সরকার ব্যাপক নিধন অভিযান শুরু করে। গঠন করা হয় ‘আমামি মঙ্গুজ বাস্টার্স’ নামের বিশেষ টিম। দ্বীপজুড়ে ৩০ হাজারের বেশি ফাঁদ, ৩০০ নাইট-ভিশন ক্যামেরা এবং প্রশিক্ষিত কুকুর নামিয়ে বেজি খোঁজার অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ অভিযানের পর ২০১৮ সালের এপ্রিলে শেষবারের মতো একটি বেজি ফাঁদে ধরা পড়ে। এরপর টানা কয়েক বছর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দ্বীপটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেজিমুক্ত ঘোষণা করে দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ থেকে নেওয়া বেজির হাত থেকে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে জাপানের লেগে যায় দীর্ঘ ৪৫ বছর, আর ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের এই নিধন অভিযানে ব্যয় হয় ৩.৫৭ বিলিয়ন ইয়েন-যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৯০ কোটি টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *