সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় দুই শিশুসন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যা করে পৃথক দুটি হাওরে ফেলে দেওয়ার রোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে তাদেরই জন্মদাতা পিতা কামরুলের বিরুদ্ধে। বুধবার (১২ আগস্ট) পুলিশ অভিযুক্ত পিতা কামরুলকে আটক করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের দুই সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, তা এখনো উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, গত ৮ আগস্ট (শনিবার) নিজ দুই সন্তানকে সাথে নিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হন পেরুয়া গ্রামের বাসিন্দা কামরুল। ঘটনার পরদিন তিনি একা বাড়িতে ফিরে এলেও সন্তানদের আর সাথে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে নিখোঁজের তদন্ত চলাকালীন মঙ্গলবার জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকায় এক শিশুর এবং পরদিন বুধবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকার হাওরে অপর এক শিশুর মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত মরদেহ দুটি নিখোঁজ দুই শিশুর বলেই নিশ্চিত হওয়া গেছে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর পুলিশ বুধবার অভিযুক্ত কামরুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে দিরাই থানায় নিয়ে আসে। সেখানে পুলিশের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়ে একপর্যায়ে কামরুল স্বীকার করেন যে তিনি নিজেই দুই সন্তানকে হত্যা করে মরদেহগুলো পৃথক হাওরে ফেলে দিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, “আটক কামরুল নিজের দুই সন্তানকে হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। তাকে আরও বিস্তারিত তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সুনামগঞ্জ জেলা সদরে পাঠানো হচ্ছে।”
এই ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখতে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মাঠপর্যায়ে তদন্ত জোরদার করেছে পুলিশ।

