ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন ও অমানুষিক ভয়ভীতি দেখানোর গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ভারতের উদীয়মান ক্রিকেটার অভিষেক পোড়েল। মেডিকেলপড়ুয়া এক তরুণীর লিখিত অভিযোগ ও কলকাতা হাইকোর্টের কড়া নির্দেশনার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ। ২৩ বছর বয়সী এই বাঙালি উইকেটকিপার-ব্যাটার ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলার প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের নিয়মিত মুখ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার দমদম এলাকা থেকে অভিষেককে আটক করা হয়। পরবর্তীতে হুগলিতে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্নের পর তাকে চুঁচুড়া আদালতে হাজির করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে অভিষেক পোড়েলের সঙ্গে ভুক্তভোগী মেডিকেল ছাত্রীর পরিচয় ও পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই তরুণীর দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌথভাবে বিদেশ ভ্রমণসহ বিভিন্ন সময় তাদের শারীরিক সম্পর্ক হয়। তবে গত বছর থেকে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হলে অভিষেক বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। অভিযোগকারীর আরও দাবি, চলতি বছরের ২ এপ্রিল দিল্লিতে তাকে একঘরে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং দীর্ঘসময় খাবার না দিয়ে অসুস্থ করে ফেলা হয়।
গত ২৩ জুন হুগলির মগরা থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে মামলা করা হলে আত্মগোপনে চলে যান এই ক্রিকেটার। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী তরুণী বিচার পেতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে গত ২০ জুলাই হাইকোর্ট অভিযুক্ত ক্রিকেটারকে গ্রেপ্তারের স্পষ্ট আদেশ দেন। আদালতের আদেশের পর তল্লাশি জোরদার করে দমদম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ইতোমধ্যেই ভারতীয় দণ্ডবিধির আওতায় ধর্ষণ, অমানুষিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনে অভিষেকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন এই ক্রিকেটার। অভিযোগ আদালতের বিচারাধীন ও তদন্তাধীন থাকলেও এই ঘটনায় তরুণ এই ক্রিকেটারের পেশাদার ভবিষ্যৎ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ল।

