প্রধান খবর

‘আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি’- রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে শেষ ভয়েস মেসেজে মোহন

‘মা, দুইটা কথা কমু, আমি আর কথা কমু না। আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি’— সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় আগুন লাগার পর মাকে পাঠানো শেষ ভয়াবহ ভয়েস মেসেজে এভাবেই নিজের মৃত্যুর বার্তা দিয়ে গেছেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালি গ্রামের প্রবাস ফেরত যুবক মোহন প্রামাণিক। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে এই আকুল কণ্ঠস্বর কেবল তাঁর মা ময়না খাতুনের কানেই নয়, পুরো গ্রামের বাতাস ভারী করে তুলেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মোহন ছাড়াও প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর বড় ভাই সুমন প্রামাণিক।

গতকাল রোববার দুপুরে সৌদি আরবের রিয়াদস্থ শিফা থানার মুসা সানাইয়া এলাকার একটি সোফা তৈরি কারখানায় ভয়াবহ আগুন লাগে। সেখানে অন্যান্য প্রবাসীদের পাশাপাশি একই সাথে মারা যান ময়না খাতুনের দুই সন্তান সুমন ও মোহন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা ময়না খাতুন বলেন, বড় ছেলে সাত বছর আর মেজো ছেলে দুই বছর ধরে প্রবাসে কষ্ট করছিলেন। সবেমাত্র সংসারের দেনা শোধ করে বাড়ির পাকা ঘর তৈরির কাজ ধরেছিলেন তারা। নতুন স্বপ্ন আর দেশে ফিরে বিয়ের পরিকল্পনার কথা বললেও জীবিত অবস্থায় আর বাড়ি ফেরা হলো না তাদের।

দুই সন্তানকে একসঙ্গে হারিয়ে এখন দিশেহারা পুরো পরিবার। সকালে আত্রাইয়ের কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। কান্না থামাতে পারছেন না স্বজনেরা। নিহতদের মা আকুল আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘আমার দুই ধনকে আমার বুকে এনে দাও, ওদের শেষবারের মতো জড়িয়ে ধরে কলিজাটা একটু শান্ত করি।’ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দুর্ঘটনায় নিহত ১৬ জন বাংলাদেশির মধ্যে ১৩ জনের বাড়িই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।

বর্তমানে নিহতদের মরদেহ দেশে দ্রুত ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহত প্রবাসী শ্রমিকদের মরদেহ দ্রুত স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করতে প্রবাস কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *