দীর্ঘ ২৫ বছরের বিশ্বস্ত কর্মসম্পর্কের নিবিড় টানে সৌদি আরব প্রবাসী এক বাংলাদেশি কর্মীর বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন তাঁর সৌদি কফিল (নিয়োগকর্তা)। প্রবাসীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশে এসে অতিথি হয়েছেন সৌদি আরবের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. খালেদ আহমেদ সালেহ আল গমেদি। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের জামতলী গ্রামে সৌদিপ্রবাসী মো. নাজির মিয়ার বাড়িতে পৌঁছান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামতলী গ্রামের আব্দুল অহেদ মিয়ার ছেলে মো. নাজির মিয়া গত ২৫ বছর ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসক ডা. গমেদির অধীনে কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই নাজির মিয়ার বাংলাদেশে থাকা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসার প্রবল আগ্রহ ছিল এই সৌদি চিকিৎসকের। তবে পেশাগত নানা ব্যস্ততার কারণে এতদিন তাঁর আসা হয়ে ওঠেনি। অবশেষে বাংলাদেশ সফরের সুযোগ পেয়েই তিনি সোজা চলে আসেন তাঁর বিশ্বস্ত কর্মীর গ্রামের ভিটায়।
সৌদি নাগরিক তথা প্রবাসীর কফিলের আগমনকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গ্রামের তরুণ ও যুবকেরা উৎসাহের সঙ্গে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান এবং প্রবাসীর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তিনি কুশল বিনিময় করেন। অনুভূতি ব্যক্ত করে প্রবাসী নাজির মিয়া বলেন, তাঁর কফিল সৌদি আরবের স্বনামধন্য একজন চিকিৎসক এবং অত্যন্ত চমৎকার মনের মানুষ। দীর্ঘদিন পর তাঁকে নিজের জন্মভূমিতে ও নিজ গৃহে আতিথেয়তা দিতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
অনুবাদকের মাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ডা. খালেদ আহমেদ সালেহ আল গমেদি জানান, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও এখানকার মানুষের আতিথেয়তা তাঁকে ভীষণ মুগ্ধ করেছে এবং সুযোগ পেলে তিনি আবারও বাংলাদেশে আসবেন। এদিকে একজন বিশিষ্ট সৌদি চিকিৎসকের প্রত্যন্ত গ্রামে আগমনের খবরে আশপাশের এলাকা থেকেও কৌতূহলী মানুষ তাঁকে একনজর দেখতে নাজির মিয়ার বাড়িতে ভিড় জমায়। আগত সকল উৎসুক মানুষের প্রতি প্রবাসী নাজির মিয়া আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

