প্রধান খবর

 নাতিকে দেখতে যাওয়া দাদিকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন

রংপুরের পীরগাছায় নাতিকে দেখতে গিয়ে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ধলি খাতুন (৪৫) নামের এক নারী। সাবেক বেয়াই-বেয়াইন ও ছেলের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীকে ঘরে আটকে রেখে মারধর, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং সঙ্গে থাকা সোনা ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গত ৩ আগস্ট (সোমবার) দুপুরে উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের পঞ্চানন গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতনের শিকার ধলি খাতুন চণ্ডীপুর গ্রামের দিনমজুর আহসান উদ্দিনের স্ত্রী। অভিযুক্তরা হলেন-পঞ্চানন গ্রামের আবু কাশেম মিয়া, তাঁর স্ত্রী ছাফিয়া বেগম এবং তাঁদের মেয়ে কেয়া মনি (ভুক্তভোগীর ছেলের সাবেক স্ত্রী)।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন বছর আগে ধলি খাতুনের ছেলে ইয়ামিনের সঙ্গে কেয়া মনির বিয়ে হয় এবং তাঁদের সংসারে রায়হান (২) নামে একটি সন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় দুই মাস আগে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। সোমবার দুপুরে ধলি খাতুন অবুঝ নাতিকে একনজর দেখতে সাবেক বেয়াইয়ের বাড়িতে যান। অভিযোগ মতে, সেখানে পৌঁছানোমাত্রই তাঁকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। নির্যাতন চলাকালে একপর্যায়ে জোরপূর্বক তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও সোনার গহনা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আবু কাশেম মিয়া দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। ধলি খাতুন কাউকে না জানিয়ে ঘুমন্ত শিশুটিকে নিয়ে যেতে চাইলে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে বাধা দেন এবং সেই প্রেক্ষাপটে হাতাহাতির সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *