শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর অদূরে অবস্থিত অতিরিক্ত কয়েদিতে ঠাসা ‘মাহারা’ কারাগারে বন্দীদের মাঝে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও এলিট স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের শত শত সদস্য মোতায়েন করেছে দেশটির সরকার। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার মাহারা কারাগারের ভেতরে কয়েদিদের দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘাত ও তাণ্ডব শুরু হয়। এতে অন্তত এক জন কয়েদি নিহত এবং আরও ছয়জন গুরুতর আহত হন। দাঙ্গার একপর্যায়ে কয়েদিরা ক্ষিপ্ত হয়ে কারাগারের ভেতরের রান্নাঘর, হাসপাতাল ভবন, নতুন নির্মিত পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সুবিধাসমূহ ভাঙচুর করে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়।
লঙ্কান পুলিশের উপমহাপরিদর্শক সঞ্জীব মেদাওয়াত পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে গণমাধ্যমকে জানান, “কারাগারের ভেতর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর বন্দীদের নিজ নিজ কক্ষে ফেরত পাঠাতে এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমরা সশস্ত্র বাহিনী ও এলিট কমান্ডোদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সহায়তা পেয়েছি। বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
উল্লেখ্য, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত কয়েদি অবস্থানের কারণে শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলোতে নিয়মিতই সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। চলতি বছরের গত জুলাই মাসেই একই অঞ্চলের নেগোম্বো কারাগারে কয়েদি ও কারারক্ষীদের মধ্যে প্রাণঘাতী দাঙ্গায় ৩১ জন নিহত হন। এছাড়া ২০২০ সালের নভেম্বরে এই মাহারা কারাগারেই আরেক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনায় ১১ জন কয়েদি নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছিলেন। একের পর এক এই সহিংসতা দেশটির কারাব্যবস্থার চরম অব্যবসাপনাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।

