ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইতালি

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নেপলসের কাছে অবস্থিত ‘কামপি ফ্লেগ্রেই’ আগ্নেয়গিরি অধ্যুষিত এলাকায় ৪.৭ মাত্রার একটি ভয়াবহ মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিটে সংঘটিত এই শক্তিশালী ভূকম্পনে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে এবং ট্রেন ও মেট্রো চলাচল মারাত্মকভাবে স্তব্ধ হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কম্পনের পরপরই ওই অঞ্চলের একাধিক ভবনে বড় ধরনের ফাটল ও ক্ষয়ক্ষতি পরিলক্ষিত হয়।

ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জিওফিজিক্স অ্যান্ড ভলকানোলজি জানিয়েছে, ভূগর্ভের মাত্র ৩ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ঘটে। মূল কম্পনের পর ওই এলাকায় অন্তত ৬০টি মৃদু আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার ভোরে অনুভূত ৩.১ মাত্রার কম্পনটি নেপলস ছাড়াও বাকোলি ও পোজুওলি এলাকার বাসিন্দারা বেশ স্পষ্টভাবে অনুভব করেন। এমনকি এই তীব্রতা পুরো নেপলস, ইসচিয়া দ্বীপ এবং সোরেন্টো উপদ্বীপ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

গবেষকদের মতে, গত ৪০ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ওই অঞ্চলে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। পোজুওলি এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। সেখানে একটি বহুতল ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়ে এবং পার্ক করা গাড়ির ওপর ভারী ধ্বংসাবশেষ আচড়ে পড়ে। সৌভাগ্যবশত এতে সরাসরি কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও নিরাপত্তার খাতিরে আড়াই শতাধিক মানুষকে বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ধসে পড়ার ভয়ে বহু আতঙ্কিত বাসিন্দা কনকনে রাতে রাস্তায় কাটাতে বাধ্য হন।

ঘনবসতিপূর্ণ এই আগ্নেয়গিরি এলাকাটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হঠাৎ করেই ভূমিকম্পের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারের পক্ষ থেকে পুরো অঞ্চলে বিশেষ উচ্চ সতর্কতা ও নজরদারি জারি করা হয়েছে। কর্মকর্তা ও গবেষকরা জানিয়েছেন, ১৯৮০-এর দশকের ভয়াবহ ভূকম্পন সংকটের পর এটিই এই এলাকার অন্যতম মারাত্মক প্রাকৃতিক ধাক্কা। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে ভূকম্পনপ্রবণ ইতালিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় এখন জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *