যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী সামরিক সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। এর ইতিবাচক প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে মন্দাভাব দেখা গেছে এবং জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ২.২ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, আন্তর্জাতিক তেলের প্রধান মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ (Brent Crude)-এর দাম ব্যারেল প্রতি ২.২ শতাংশ কমে বর্তমানে ৮৪.০৩ মার্কিন ডলারে এসে নেমেছে। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত শুরু হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ছিল ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭২ ডলার।
অন্যদিকে, মার্কিন বেঞ্চমার্ক ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (WTI) ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১.৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৮১.২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তেলের বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারেও সামান্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। জাপানি ইয়েনের বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১৬৩.৭৫ ইয়েন থেকে সামান্য বেড়ে ১৬৩.৮২ ইয়েনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ইউরোর বিনিময় হার ১.১৩৬৯ ডলার থেকে সামান্য হ্রাস পেয়ে ১.১৩৬৭ ডলারে নেমেছে।
আঞ্চলিক কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারীদের সূত্রে জানা গেছে, টানা সংঘাতের পর উভয় পক্ষ আক্রমণ থেকে বিরত থাকায় ওয়াশিংটন ও তেহরানকে পুনরায় মূল কূটনৈতিক আলোচনা টেবিলে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। ফলে অবরুদ্ধ বা ঝুঁকিগ্রস্ত নৌপথগুলোতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বিনিয়োগকারীরা তেলের বাজারে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।

