ভোলা সদর উপজেলায় ভাড়া বাসা থেকে মো. শাহাবুদ্দিন ফকির (৪৫) নামের এক কোর্ট পুলিশ কনস্টেবলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রায় তিন মাস আগে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার আশঙ্কায় একমাত্র প্রিয় কন্যার আত্মহননের পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ভোলা সদর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের অফিসারপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
নিহত শাহাবুদ্দিন ফকির বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ বিজয়পুর গ্রামের আদম আলী ফকিরের ছেলে। তিনি গত দুই বছর ধরে ভোলা আদালতে কোর্ট পুলিশ বিভাগে কনস্টেবল পদে বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৪ মে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় মানসিক হতাশায় ভুগে তার ১৬ বছর বয়সী একমাত্র কন্যাসন্তান তৈয়বা জাহান চৈতি আত্মহত্যা করে। একমাত্র সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে চরম ভেঙে পড়েন শাহাবুদ্দিন। গত কয়েকদিন আগে তার স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে গেলে তিনি ভোলার বাসায় একাই অবস্থান করছিলেন।
মঙ্গলবার সকালে আদালতে নিয়মিত ডিউটি থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি। পরবর্তীতে সহকর্মীরা একাধিকবার তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কল করলেও কোনো সাড়া পাননি। এতে সন্দেহ হলে সহকর্মীরা সরাসরি তার ভাড়া বাসায় যান। সেখানে গিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ পেয়ে বাড়ির মালিক ও স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করা হয়। পুলিশ গিয়ে ভেতরের সিটকিনি ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভোলা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মো. নাছির উদ্দিন জানান, ডিউটিতে না আসায় এবং ফোন না ধরায় সহকর্মীরা গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। একমাত্র মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর থেকেই তিনি গভীর শোকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে এই মৃত্যুর পেছনে বিষাদ নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও সার্বিক তদন্ত শেষে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

