যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বড় সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের ‘জাতীয় স্বার্থকে’ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সঠিক মনে হলে ব্রিটেনের স্বার্থ রক্ষায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বা ভিন্নমত প্রকাশ করতে তিনি বিন্দুমাত্র পিছপা হবেন না।
রোববার (২৬ জুলাই) প্রচারিত বিবিসি-র ‘সানডে উইথ লরা কুয়েনসবার্গ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম জানান, নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর প্রথম ফোনালাপটি অত্যন্ত ভালো ও উষ্ণ ছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তিনি শতভাগ বিশ্বাস করেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে কিছুটা কৌশলগত পথ বেছে নিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ব পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল, আর আমাদের ঘটনামাত্রই পরিস্থিতি অনুযায়ী মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জন্য যা সঠিক বলে মনে হবে, তা বলতে তিনি দ্বিধা করবেন না। তাঁর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কনজারভেটিভ পার্টির শ্যাডো হোম সেক্রেটারি ক্রিস ফিলপ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের মিত্র এবং তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা প্রয়োজন। তবে তারা এমন কিছু করলে যার সঙ্গে যুক্তরাজ্য একমত নয়, তা বন্ধু হিসেবে সততার সঙ্গেই প্রকাশ করা উচিত।
সাক্ষাৎকারে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করার বার্তা দিয়ে ২০২৯ সালের আগে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা পুরোপুরি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ এখন নতুন কোনো নির্বাচন চায় না; বরং এই মুহূর্তে মূল মনোযোগ হওয়া উচিত যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও পরিস্থিতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা।

