প্রধান খবর

জেলের ছদ্মবেশে অনুসন্ধানে সাংবাদিক, ঘুস নিলেন নৌ-পুলিশ সদস্য

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় বলেশ্বর ও বিষখালী নদীতে চলাচলকারী মাছ ধরার ট্রলার ও পণ্যবাহী নৌযান থেকে চরদুয়ানী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত মাসোহারা না দিলে সাধারণ জেলেদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও ট্রলার জব্দের ভয় দেখানো হচ্ছে। সম্প্রতি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এক সাংবাদিক সাধারণ জেলের ছদ্মবেশ ধারণ করলে, পুলিশ সদস্য তাঁর কাছ থেকেও সরাসরি ও বিকাশের মাধ্যমে টাকা নেন-যা এখন গোপন ক্যামেরায় বন্দি হয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, মহাজন ও এনজিওর ঋণের বোঝা টেনে যেখানে দিনযাপন কঠিন, সেখানে নৌ-পুলিশের প্রতি ট্রলার থেকে মাসে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা চাঁদা দেওয়ার দাবি নতুন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলেদের এই দুর্ভোগ সরাসরি উন্মোচন করতে অনুসন্ধানে নামেন সাংবাদিক তাওহীদুল ইসলাম শুভ। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে চরদুয়ানী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই কবির হোসেন ছদ্মবেশী ওই সাংবাদিকের কাছে সরাসরি টাকা দাবি করেন এবং বিকাশের মাধ্যমে তা গ্রহণ করেন। সংগৃহীত একটি অডিও রেকর্ডে এএসআই কবিরকে বলতে শোনা যায়, এই চাঁদাবাজির টাকার ভাগ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ সকল সদস্যই পেয়ে থাকেন।

ভুক্তভোগী জেলে ও মাঝিরা জানান, নদীতে নামলেই পুলিশের হয়রানির ভয়ে তটস্থ থাকতে হয়। অন্যদিকে ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্ত অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ও বিভাগীয় শাস্তির দাবি জানান।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে চরদুয়ানী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. গজ গভীর মিয়া জানান, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক জানান, ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে জেলেদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *