২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন দলের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে তথাকথিত ‘মাদকবিরোধী অভিযান’-এর নামে কাউন্সিলর একরামুল হককে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে দাবি করা হলেও, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় এটি বিচারবহির্ভূত ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর সুপারিশ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ১১ জনের তালিকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির নাম রয়েছে। এছাড়া তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন ও মাঠপর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে এ মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, একরামুল হত্যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; বরং তৎকালীন সরকারের আমলে চালানো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের একটি অংশ।
উল্লেখ্য, হত্যাকাণ্ডের সময় একরামুলের ফোনে ধারণকৃত একটি মর্মান্তিক অডিও রেকর্ড প্রকাশ্যে এলে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়, যেখানে স্বজনদের আকুতি ও গুলির শব্দ শোনা যায়। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিগত সরকারের আমলের গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাগুলো পুনঃতদন্তের আওতায় আনা হয়। জমা পড়া প্রতিবেদনটি এখন আইনগতভাবে পর্যালোচনা করছে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম; পর্যাপ্ত প্রমাণ মিললে শিগগিরই আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

