ভারতের শিক্ষার্থী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ব্যানারে চলা টানা আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করার পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বিদায়ী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘নিট-ইউজি’ পরীক্ষা কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া অস্থিতিশীলতার সুযোগ যেন কোনো ‘দেশবিরোধী শক্তি’ নিতে না পারে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেন ব্যাহত না হয়, সে কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) হিন্দিতে লেখা তাঁর এই চিঠিটি প্রকাশ করা হয়। চিঠিতে নিট-ইউজি পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় বিতর্কের নৈতিক দায় নিজের কাঁধে নেওয়ার পাশাপাশি সংকট মোকাবিলায় সরকারের দ্রুত ও জোরালো পদক্ষেপের সাফাই গান তিনি।
ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, “প্রথম দিন থেকেই আমি আমার দায়িত্ব স্বীকার করেছি এবং এ পরিস্থিতি থেকে কখনও মুখ ফিরিয়ে নিইনি।” তিনি জানান, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষার কারচুপি প্রকাশ্যে আসার পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিল করে অতি দ্রুততার সঙ্গে সফলভাবে পুনঃপরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
পদত্যাগের সিদ্ধান্তে নিজের ব্যথাতুর হৃদয়ের কথা জানিয়ে সাবেক এই মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, সংকটকালে ‘দায়িত্বশীল পদে থাকা কিছু ব্যক্তি’ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছেন। নির্দিষ্ট কারো নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর ইঙ্গিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দিকেই ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
চিঠিতে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যন্তর মন্তরসহ সারা দেশের চলমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন ও দেশের ঐক্য রক্ষার্থেই তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন। একই সঙ্গে ভারতের তরুণ সমাজকে কোনো ধরনের ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় প্ররোচিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

