ভারতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে কেবল একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনা করার অপরাধে আসামের লখিমপুর জেলা থেকে তিন মুসলিম তরুণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কোনো ধরনের বিক্ষোভ মিছিল বা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই তাঁদের বিরুদ্ধে দেশের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতা বিপন্ন করার মতো গুরুতর রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত তরুণরা হলেন- মনজুর রহমান (২৩), আশরাফুল ইসলাম (২১) এবং আবদুল কাশেম (২৩)। তাঁরা সবাই লখিমপুরের লালুক থানার অন্তর্গত ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মনজুর ও আশরাফুল এম.কম-এর শিক্ষার্থী এবং আবদুল কাশেম ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সে স্নাতক শেষ করে একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করছিলেন।
জানা যায়, দেশে শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলনের সমর্থনে তাঁরা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলেন। পরবর্তীতে একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি চেয়ে লালুক থানায় আবেদন করা হলেও পুলিশ তা নামঞ্জুর করে। এরপর গত ২২ জুলাই পুলিশ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নিয়ে পরবর্তীতে গ্রেফতার দেখায়।
পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’-র অত্যন্ত কঠোর ১৫২ নম্বর ধারাসহ বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা দায়ের করেছে, যা মূলত রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা দেশের অখণ্ডতা বিনষ্টের অপরাধে প্রয়োগ করা হয়। তবে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানালেও আদালত তা খারিজ করে আসামিদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
এই গ্রেফতারের ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিযুক্তদের স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, কোনো সমাবেশ অনুষ্ঠিত না হওয়া সত্ত্বেও কেবল মুসলিম হওয়ায় বেছে বেছে তাঁদের টার্গেট করা হয়েছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন লালুক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সীমান্ত পাঠক।

