ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও আন্দোলন থেকে সরে আসছে না রাজপথে থাকা শিক্ষার্থী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সংগঠনের সভাপতি অভিজিৎ দীপকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কেবল শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফাতেই এই আন্দোলন শেষ হচ্ছে না, তাঁদের বাকি দুই মূল দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG)-তে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার নানা অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে শনিবার বিকেলে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মন্ত্রী পদত্যাগ করার পরপরই আন্দোলনকারীদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সিজেপি প্রধান বলেন, “আমাদের আরও দু’টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি রয়ে গেছে এবং আমরা সেগুলোতে অনড়।”
আন্দোলনকারীদের প্রথম দাবি তুলে ধরে অভিজিৎ দীপকে বলেন, প্রশ্নফাঁস ও অনিশ্চয়তার মানসিক চাপে যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, তাদের প্রতিটি পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তাঁর মতে, চরম মানসিক বিপর্যয় ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার দায় এড়িয়ে ওই পরিবারগুলোকে একা ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
দ্বিতীয় দাবির কথা উল্লেখ করে সিজেপি প্রধান বলেন, গত ২০ জুলাই রাজধানী দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতন চালানো হয়েছিল। ওই দিন গুন্ডার মতো আচরণকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলন চলাকালে এবং ২০ জুলাইয়ের পর থেকে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা সমস্ত মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রীর বিদায়কে আন্দোলনের আংশিক বিজয় হিসেবে দেখলেও, নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ এবং আহত ও নিপীড়িত আন্দোলনকারীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিজেপি নেতৃত্ব।

