হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামরিক সক্ষমতা ধসিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ইরানের অভ্যন্তরে টানা ১১তম রাতের মতো ভারী বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাতে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির একাধিক কৌশলগত অঞ্চলে এ হামলা পরিচালিত হয়।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বরাতে জানা গেছে, গভীর রাতের এই হামলায় পুরো তেহরান জুড়ে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) সক্রিয় হয়ে ওঠে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক অপারেশনাল সেন্টার, নৌঘাঁটি, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন গুদাম এবং সামরিক রসদ অবকাঠামো। এবারের হামলায় মার্কিন কৌশলগত পরিবর্তন দেখা গেছে; দক্ষিণাঞ্চলের পাশাপাশি এবার তাবরিজসহ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমের শহর সংলগ্ন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে। এছাড়া বুশেহর, সিরিক এবং খুজেস্তান প্রদেশের সামরিক স্থাপনাতেও মিসাইল আছড়ে পড়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে এই যুদ্ধ ও বিপুল ব্যয় নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেন্টাগনের অতিরিক্ত ৯০ বিলিয়ন ডলার জরুরি বাজেটের আবেদন জানালে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা সরকারের আগের বিভিন্ন দাবির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ইরানের ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ নামের একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় শীঘ্রই অতি ভারী হামলার পরিকল্পনা করছেন। জবাবে ইরানের ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, পারমাণবিক কেন্দ্রে আঘাত এলে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থের ওপর হামলার মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে।
সংঘাতের পারদ চূড়ায় উঠলেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থেমে নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সাথে বৈঠক করেছেন ইরানি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি। একই সাথে কাতার ও সৌদি আরবের শীর্ষ নেতৃত্ব উভয় পক্ষকে সংযম বজায় রেখে সহিংসতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

