চলমান তীব্র গ্যাস সংকট ও নাগরিক সেবার চরম ঘাটতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। শনিবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন-গ্যাস ও নাগরিক সেবা না মিললে জনগণকেও বিল ও কর পরিশোধ থেকে বিরত থাকা উচিত।
নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “গ্যাস না থাকলে বিল নয়, সেবা না মিললে কর নয়।” তাঁর এই ‘নো গ্যাস নো বিল, নো সেবা নো ট্যাক্স’ স্লোগানটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে জোর সমর্থন পায়।
জাতীয় সংসদেও এ নিয়ে সরব অবস্থান নিয়েছেন এই নারী এমপি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ ধারায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ এতটাই অনিয়মিত হয়ে পড়েছে যে তা কখন আসে আর কখন যায় তা সাধারণ মানুষের বোঝার উপায় থাকে না। তেলের অনিয়ন্ত্রিত দাম, বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং এবং গৃহস্থালি ও শিল্প কারখানায় গ্যাসের চরম সংকট মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
রুমিন ফারহানা আরও অভিযোগ করেন, সরকারের শুরুতেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। বিগত ছয় মাসে দেশের শিল্প খাত থমকে গেছে, বন্ধ হয়েছে ৯০০-র বেশি কলকারখানা এবং চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ৬২ হাজার মানুষ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস দিয়ে দেশের অধিকাংশ এলাকা পরিচালিত হলেও তাঁর নিজের আসনের মানুষই গ্যাস থেকে বঞ্চিত-এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সেবামূল্যের বিপরীতে উপযুক্ত সেবা না পাওয়া নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করার শামিল। ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদিনসহ অন্য বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতাও গ্যাস না পেয়েও নিয়মিত বিল গুনে যাওয়ার বিষয়ে সংসদে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

