অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত ভিকারুননিসা অ্যালামনাই অস্ট্রেলিয়া (ভিএএইউএস) আয়োজিত বহুল প্রতীক্ষিত চ্যারিটি অনুষ্ঠান ‘ফ্লেভারস অব হোম: অ্যান আরভো উইথ কিশোয়ার চৌধুরী’ ইতিমধ্যেই হাউসফুল হয়েছে। আগামী রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মেলবোর্নের পোর্ট মেলবোর্নে অবস্থিত স্যান্ডরিজ ইভেন্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশেষ আয়োজন।
বিশ্বখ্যাত রিয়েলিটি শো ‘মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া’র তারকা এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় অজি-বাংলাদেশি শেফ কিশোয়ার চৌধুরীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত আয়োজকেরা। তাঁর উপস্থিতিতে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানটি শুধু রন্ধনশিল্প উদযাপনই নয়, বরং বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা, সংস্কৃতি এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য চ্যারিটি উদ্যোগে পরিণত হতে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের মূল ব্যানারে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল এবং মেলবোর্নের ঐতিহ্যবাহী ফ্লিন্ডার্স স্ট্রিট স্টেশনের প্রতীকী উপস্থাপনা দুই দেশের সংস্কৃতি ও প্রবাসজীবনের অবিচ্ছেদ্য বন্ধনকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। আয়োজকদের মতে, এটি মূলত শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ এবং প্রবাসী জীবনের যৌথ যাত্রার এক নান্দনিক প্রতিফলন।
বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পান্তা ভাতকে অনন্য উপায়ে পরিবেশন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন কিশোয়ার চৌধুরী। এবার তিনি ভিএএইউএস-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন একটি মহৎ মানবিক উদ্যোগে। এই ইন্টারঅ্যাকটিভ অনুষ্ঠানে কিশোয়ারের মেলবোর্ন থেকে বাংলাদেশ ও লন্ডনসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা তাঁর বৈচিত্র্যময় রন্ধনযাত্রার দারুণ সব গল্পও উঠে আসবে।
মেলবোর্নে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকেও ভিকারুননিসা অ্যালামনাই সদস্যরা আসছেন। অনুষ্ঠানে প্রায় দুই শতাধিক অতিথি অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিটি টিকিটের সঙ্গে উপহার হিসেবে থাকছে কিশোয়ার চৌধুরীর সম্প্রতি প্রকাশিত রন্ধনবিষয়ক বই ‘স্মোক, রাইস, ওয়াটার’। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা সরাসরি লেখকের অটোগ্রাফসহ বই সংগ্রহের অনন্য সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত টিকিট বিক্রির আয়ের একটি বিশেষ অংশ বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে পরিচালিত একটি চ্যারিটি প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। ভিএএইউএস-এর সভাপতি মারিয়াম শামস বলেন, “ভিএএইউএস শুধু একটি অ্যালামনাই সংগঠন নয়; এটি বন্ধুত্ব, বিশ্বাস ও স্মৃতির বন্ধনে আবদ্ধ একটি বড় পরিবার। আমরা একে অপরকে এগিয়ে নিয়ে যাই এবং সমাজের জন্য অর্থবহ অবদান রাখি। আমাদের মূলমন্ত্র-স্টার্ট এজ ভিকি, স্টপ অ্যাট নাথিং’।”

