কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি একটি প্রোপাগান্ডা ভিডিওতে ফিলিপাইনকে ‘ভীতু বানর’ হিসেবে উপস্থাপনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ম্যানিলা। ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই উপস্থাপনাকে ‘অমানবিক ও বর্ণবাদী’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ভিডিওটি অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম একটি এআই-নির্মিত বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওটিতে ফিলিপাইনের পতাকা সংবলিত পোশাক পরা একটি বানরকে দেখা যায়, যাকে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের পতাকা আঁকা দুটি হাত একটি নৌকার ওপর তৈরি দুর্বল কারাওকে মঞ্চে ঠেলে দিচ্ছে। সেখানে বানরটি ভুল গান গাওয়ায় তাকে তিরস্কার করা হয় এবং সে ‘দক্ষিণ চীন সাগর সালিশি রায়’ লেখা একটি কাগজ বের করলে তাকে সমুদ্রে ছুড়ে ফেলে জলকামান দিয়ে আঘাত করা হয়।
ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আইনি ও রাজনৈতিক বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও কোনো দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এমন উদ্বেগজনক ও মর্যাদাহানিকর উপস্থাপনের স্থান থাকতে পারে না। এ ধরনের অপপ্রচার ও ভুল তথ্য দুই দেশের পারস্পরিক অবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভিডিওটিকে ‘ঘৃণ্য প্রচারণা’ বলে অভিহিত করে একে চীনের প্রচার ব্যবস্থার ‘নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
মূলত দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ জলসীমায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বেইজিং এই ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও প্রকাশ করল। নেদারল্যান্ডসের দ্যা হেগে অবস্থিত ‘স্থায়ী সালিশি আদালত’ দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে ফিলিপাইনের পক্ষে রায় দিলেও বেইজিং শুরু থেকেই তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। চীনের দাবি, ফিলিপাইন বহিরাগত শক্তির ওপর ভর করে দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে এবং অন্য দেশের ভূরাজনৈতিক খেলার ‘ঘুঁটি’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই বানরের ভিডিওটি ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিপাইনকে ভাঁড় ও সাপ হিসেবে উপস্থাপন করে একাধিক ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করেছে চীনা সংবাদমাধ্যম, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।

