ইরানের চাবাহার বন্দরে অবস্থিত একটি সামুদ্রিক নজরদারি ও নৌ-চলাচল নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। তেহরান এই সুনির্দিষ্ট ধ্বংসাত্মক হামলার জন্য সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে একটি ‘জঘন্য’ অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এই আগ্রাসন স্থানীয় সাধারণ জেলেদের দীর্ঘদিনের জীবিকা এবং ওই অঞ্চলের বেসামরিক নৌ-চলাচলের সামগ্রিক নিরাপত্তার ওপর এক সরাসরি ও মারাত্মক আঘাত।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাকরান উপকূলের চাবাহার বন্দরকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে মার্কিন বাহিনী। এই সুনির্দিষ্ট হামলার ফলে বন্দরটির একটি সম্পূর্ণ বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি স্থাপনা মাটির সাথে মিশে যায়। ইরান জোর দিয়ে বলেছে, ধ্বংসপ্রাপ্ত এই টাওয়ারটি মূলত সামুদ্রিক নৌ-চলাচল ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ নৌ-পরিবহন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে আসছিল। এর ওপর এমন অতর্কিত হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এই ঘটনার পর উপকূলীয় অঞ্চলের বিশাল এক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টাওয়ারটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় জেলেদের দৈনন্দিন মৎস্য শিকারের কার্যক্রম এবং ওই রুট দিয়ে চলাচলকারী বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নৌ-নিরাপত্তা এখন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইরানের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক ও সামরিক মহল দাবি করেছে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর একটি বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন, সার্বভৌমত্ব এবং মৌলিক মানবিক নীতিমালার প্রতি তাদের চরম অবহেলারই আরেকটি জলজ্যান্ত উদাহরণ। তেহরানের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক রাজনীতিতে পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিনের দ্বৈত নীতি ও একপেশে মনোভাব আবারও বিশ্ববাসীর সামনে স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয়েছে। এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

