প্রধান খবর

ফাইনালে নামার আগে মহাবিপদে আর্জেন্টিনা: ৬ ফুটবলারকে নিষিদ্ধের দাবি!

স্পেনের বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের মহারণের আগে মাঠের বাইরের এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কে মহাবিপদে পড়তে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জয়ের পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (মালভিনাস) নিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান ও ব্যানার প্রদর্শনের অভিযোগে আলবিসেলেস্তেদের অন্তত ছয়জন খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ করার জন্য ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠলেও ম্যাচ শেষের নাটকীয়তা এখন মাঠের বাইরে ভিন্ন রূপ নিয়েছে। সেমিফাইনালের ম্যাচ জয়ের পর আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের মাঠের ভেতর ‘লাস মালভিনাস সন আরহেনতিনাস’ (ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি রাজনৈতিক ব্যানার উঁচিয়ে উদযাপন করতে দেখা যায়। ১৯৮২ সালে এই বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জটি নিয়ে ইংল্যান্ডের সঙ্গে আর্জেন্টিনার যুদ্ধ হয়েছিল।

ফিফার স্পষ্ট নিয়মানুযায়ী, ফুটবল ম্যাচে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক ব্যানার, বার্তা বা স্লোগান প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের এমন কাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে ব্রিটিশ লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এড ডেভি ফিফাকে এই ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ফিফা সভাপতিকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এড ডেভি বলেন, ফিফার নিয়ম সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে ফিফার নিয়মের চরম লঙ্ঘন করেছে। এটি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দা এবং সেই যুদ্ধে প্রাণ দেওয়া ব্রিটিশ সেনাদের পরিবারের জন্য চরম অপমানজনক। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, ২০২৪ সালে একই ধরনের স্লোগান দেওয়ায় স্পেনের রদ্রি ও আলভারো মোরাতাকে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল উয়েফা। এবারও তিনি সেই নিয়মের কঠোর প্রয়োগ চান।

এড ডেভির দাবি অনুযায়ী, যে ছয়জন খেলোয়াড় সেই ব্যানার ধরে রেখেছিলেন এবং চারপাশে উদযাপন করছিলেন, তাদের সবাইকে রবিবারের ফাইনাল ম্যাচ থেকে নিষিদ্ধ করা উচিত। জানা গেছে, সেই বিতর্কিত ব্যানারটি হাতে ধরা অবস্থায় ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস এবং জিওভানি লো সেলসো। অন্যদিকে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ম্যাচ পরবর্তী সাক্ষাৎকারে সরাসরি বলেন, ফকল্যান্ডস সব সময়ই আর্জেন্টিনার থাকবে। ফাইনালের ঠিক আগমুহূর্তে ফিফা এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *