সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে ইরানের কৌশলগত বন্দর ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে জোরালো বিমান হামলা শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের পক্ষ থেকে আকস্মিক হামলা চালানোর অভিযোগ তুলে এই পাল্টা ও বিধ্বংসী সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বুধবার (৮ জুলাই) মধ্যরাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাল্টা হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন সামরিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারাপার হওয়া তিনটি বাণিজ্যিক ও বেসামরিক ট্যাংকার জাহাজ লক্ষ্য করে বিপজ্জনক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই উসকানিমূলক পদক্ষেপকে বিদ্যমান শান্তি চুক্তির ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় সামরিক অবকাঠামোতে বিমান হামলা শুরু করে।
হামলা শুরুর পরপরই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় শহর সিরিক এবং এর আশপাশের এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, সিরিক বন্দরের মাছ ধরা ও বাণিজ্যিক পাইয়ার্স (জেটি), উপকূলীয় রাডার এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। সিরিকের ওপর আঘাত হানার কিছুক্ষণ পরই ইরানের অন্যতম প্রধান ও বৃহত্তম বন্দর ‘বন্দর আব্বাস’ এবং কেসমি দ্বীপের আকাশেও একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
অসমর্থিত ও প্রাথমিক কিছু কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের এই বিমান হামলা আপাতত ইরানের প্রধান প্রধান বন্দর ও উপকূলীয় সামরিক ঘাটির আশপাশেই সীমাবদ্ধ রেখেছে। তবে হামলার তীব্রতা ছিল অত্যন্ত জোরালো, যা পুরো অঞ্চলের আকাশসীমাকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। মার্কিন সেন্টকম এক বিবৃতিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এই সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় হামলা চালানোর অপরাধে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি সাধন করা।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক হামলাকে পীতিল চুক্তি বা সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন বলে দাবি করা হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্র্যাকিং ব্যবস্থা অচল করা বা নিয়ম না মানা জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায় তাদের নয়। তারা এই হামলার বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত ও কঠোর’ ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গত জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে অর্জিত ৬০ দিনের সাময়িক শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে তা পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার মুখে পড়েছে। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন করে এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

