চট্টগ্রামের পটিয়ায় আট বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে দীর্ঘদিন ধরে বলাৎকার ও পাশবিক নির্যাতন চালানোর লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই মাদরাসারই এক শিক্ষক ও তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর মূল অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জোরালো চেষ্টা চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রকাশ্যে আসে।
গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষকের নাম আজিজ উল্লাহ।
তিনি বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর খরন্দীপ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের ঈশ্বরখাইন চৌধুরীপাড়া আজিজিয়া নজিরিয়া তাহফিজুল কোরআন মাদরাসার শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদরাসারই দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে শিশুটি মারাত্মক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল। প্রথমে তার পরিবারের সদস্যরা সাধারণ কোনো রোগ বা পাইলসজনিত সমস্যা মনে করে গুরুত্ব দেননি। তবে দিন দিন শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, এটি কোনো সাধারণ রোগ নয়, বরং শিশুটি দীর্ঘদিন ধরে পৈশাচিক যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
চিকিৎসকের এমন তথ্যে স্তব্ধ হয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। পরবর্তীতে বাড়িতে এনে সুকৌশলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পরিবারের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো ঘটনা খুলে বলে ওই শিশু। সে জানায়, মাদরাসার শিক্ষক আজিজ উল্লাহ এবং আরও তিন শিক্ষার্থী মিলে গত প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে তাকে আটকে রেখে বলপূর্বক এই যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। লোকলজ্জা ও ভয়ের কারণে সে এতদিন বিষয়টি কাউকে বলতে পারেনি।
এ ঘটনায় পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আজিজ উল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি অভিযুক্ত তিন শিক্ষার্থীকেও থানায় হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষককে প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

