জার্মানির উত্তরাঞ্চলীয় স্টাড শহরে এক ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে প্রধান সন্দেহভাজন বন্দুকধারীসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও উদ্ঘাটন করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন।
সোমবার (২৯ জুন) জার্মানির স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বন্দরনগরী হামবুর্গের কাছাকাছি অবস্থিত স্টাড শহরের একটি যুব কল্যাণ কেন্দ্রে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই হামলায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সন্দেহভাজনদের হেফাজতে নেয়।
স্টাড পুলিশের আরেকজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, আটককৃতদের মধ্যে একজন মূল বন্দুকধারী হলেও, দ্বিতীয় ব্যক্তির ভূমিকা ঠিক কী ছিল তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ঘটনার সাথে জড়িত আর কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বর্তমানে পলাতক নেই বলে পুলিশ আশ্বস্ত করেছে। নিহতদের পরিচয় প্রকাশ না করলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, গুলিতে প্রাণ হারানো প্রত্যেকেই প্রাপ্তবয়স্ক। তবে এই হামলায় কতজন আহত হয়েছেন, সেই সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও জানা যায়নি।
ভৌগোলিক দিক থেকে স্টাড শহরটি হামবুর্গের পশ্চিমে অবস্থিত এবং এর জনসংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। যুব কল্যাণ কেন্দ্রের মতো একটি সংবেদনশীল স্থানে এমন রক্তক্ষয়ী হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওই এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। এলাকায় বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে আলামত সংগ্রহ ও তদন্তের কাজ চালানো হচ্ছে।
সাধারণত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় জার্মানিতে এভাবে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে গণ-হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বেশ বিরল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের এই দেশটিতে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ও চাঞ্চল্যকর বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা দেশটির কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।

