প্রধান খবর

কলকাতায় গুদাম ভবন ধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার তারাতলা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বহুতল গুদাম ভবন ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হলে হতাহতের সংখ্যা আবারও বৃদ্ধি পায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ নিহত ব্যক্তির নাম খালেক সরদার। তিনি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বাসন্তী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এদিকে হাসপাতালগুলোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো ১৭ জন শ্রমিক কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের মাথায় ও বুকে গুরুতর আঘাত থাকায় তাদের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকেলে তারাতলা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বহুতল গুদাম ভবন হঠাৎ করে তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে টন কে টন কংক্রিট, লোহার বিম ও ভারী নির্মাণসামগ্রীর নিচে চাপা পড়েন সেখানে কর্মরত বহু শ্রমিক। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজে নামে দমকল বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), পুলিশ ও কলকাতা পৌরসভার উদ্ধারকারী দল। পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযানে গতি আনতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসহ যোগ দেয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কোনো প্রাণ আটকে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে লাইফ ডিটেক্টর যন্ত্রের সাহায্যে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বহুতল এই ভবনটির নির্মাণকাজে কোনো ধরনের নিরাপত্তাবিধি মানা হয়নি। দুর্ঘটনার সময় সেখানে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করছিলেন, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা এত বেশি হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে হাসপাতাল ও দুর্ঘটনাস্থলে স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। রাতভর নিখোঁজ প্রিয়জনদের সন্ধানে শত শত মানুষকে ধ্বংসস্তূপের চারপাশে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। প্রশাসন ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

কলকাতার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ এই নির্মাণ বিপর্যয় নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গুদাম ভবনটি ধসে পড়ার আসল কারণ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান ঠিক ছিল কি না এবং পৌরসভার অনুমতি নিয়ে যথাযথ নকশা মেনে ভবনটি তৈরি হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজ্য সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কলকাতার আবাসন ও নির্মাণ খাতের শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *