লক্ষ্মীপুরে ১১ বছর বয়সী এক মাদরাসা ছাত্রকে হাত-পা টেপার কথা বলে বলাৎকার করার অভিযোগে মুরাদ হোসেন নামে এক মাদরাসার পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে, বিচারক তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
অভিযুক্ত মুরাদ হোসেন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের আটিয়াতলী গ্রামের ‘কাশিফুল উলুম মাদরাসা’র পরিচালক এবং পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুর রহমানের ছেলে। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদরাসার হেফজ বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই মাদরাসা থেকে অভিযুক্ত পরিচালককে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় পরদিন মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর সদর থানায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
শিশুটির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত তিন বছর আগে শিশুটি ওই মাদরাসার হেফজ বিভাগে ভর্তি হয় এবং সেখানে আবাসিক হলে থেকে পড়াশোনা করছিল। গত সোমবার (২২ জুন) বিকেলে শিশুটির মা তাকে মাদরাসায় দেখতে যান। তখন শিশুটি আর সেখানে থাকবে না বলে কান্নাকাটি করে। মা কারণ জানতে চাইলে সে শিক্ষকের দ্বারা ভয়াবহ শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের কথা প্রকাশ করে।
শিশুটির বরাত দিয়ে স্বজনরা জানান, গত ১৪ জুন রাতে মাদরাসার পরিচালক মুরাদ হোসেন শিশুটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে হাত-পা টিপতে বলে। এরপর সুযোগ বুঝে অবুঝ শিশুটিকে বলাৎকার করে। ঘটনাটি জানার পর শিশুটির পরিবার স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানায়। এলাকাবাসী মাদরাসায় গিয়ে পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ ঘটনার সত্যতা ও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিশু নির্যাতনের এই জঘন্য ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি ও চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

