প্রধান খবর

এমবাপের জোড়া গোল ও দেম্বেলের চমক: ইরাককে উড়িয়ে নকআউটে ফ্রান্স

কিলিয়ান এমবাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং উসমান দেম্বেলের উজ্জ্বলতায় ইরাককে সহজেই পরাজিত করেছে ফ্রান্স। হ্যাটট্রিকের সুযোগ হাতছাড়া হলেও এমবাপের জোড়া গোলের ওপর ভর করে ফ্রান্স ৩-০ ব্যবধানে ইরাককে স্তব্ধ করে দেয়। এই দাপুটে জয়ের মাধ্যমে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বকাপের শেষ ৩২ তথা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচে ফরাসিদের হয়ে ডেডলক ভাঙেন উসমান দেম্বেলে। অবশেষে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলের দেখা পেলেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। তবে এই গোলটির পেছনে মূল কারিগর ছিলেন মাইকেল ওলিস। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত গতিতে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে বক্সে প্রবেশ করেন ওলিস। সেখানে ফাঁকায় থাকা দেম্বেলেকে নিখুঁত পাস বাড়ালে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান তিনি। এই নান্দনিক গোলের মাধ্যমে ফ্রান্সের জার্সিতে নিজের বিশ্বকাপ-অভিষেক গোলটি উদযাপন করেন দেম্বেলে।

 ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ইরাকের রক্ষণভাগের মারাত্মক ভুলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। এই গোলের সূত্র ধরে কিলিয়ান এমবাপে স্পর্শ করেছেন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে। বিশ্বমঞ্চে দুজনেরই গোল সংখ্যা এখন ১৬। অন্যদিকে, লিওনেল মেসির ১৮ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করতে ফরাসি ফরোয়ার্ডের প্রয়োজন আর মাত্র ২ গোল।

ম্যাচের ৫৪ মিনিটে ইরাক নিজেদের ভুলে বিপদ ডেকে আনে। ডিফেন্ডার আহমেদ কাসেমের একটি ব্যাকপাস এতটাই গতিশীল ছিল যে গোলরক্ষক আহমেদ বাসিল তা নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন। ওত পেতে থাকা উসমান দেম্বেলে সেই সুযোগ লুফে নেন। তবে নিজে শট না নিয়ে নিঃস্বার্থভাবে বল বাড়িয়ে দেন এমবাপের দিকে। ফাঁকা পোস্টে সহজ টোকায় বল জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি সম্পন্ন করেন ফরাসি অধিনায়ক।

এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল ফ্রান্স। টানা দুই জয়ে ‘আই’ গ্রুপ থেকে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্টের পরের রাউন্ডের টিকিট কাটল ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। পরবর্তী ম্যাচগুলোর আগে এমবাপের এই বিধ্বংসী ফর্ম ফ্রান্স শিবিরকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *