প্রধান খবর

শিশু তাবাচ্ছুম ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজার এলাকায় চার বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। আজ সোমবার (২২ জুন) বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত। মাত্র চার মাসের মধ্যে সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় এই চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস মামলার বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোয় আদালত ও প্রশাসনের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছে ভিকটিম শিশুর পরিবার।

গতকাল রোববার (২১ জুন) ঝিনাইদহের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য এই দিন ধার্য করেন। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বর ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

আদালত ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত আবু তাহের। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে শিশুটি যন্ত্রণায় চিৎকার করতে গেলে খুনি আবু তাহের নিজের লুঙ্গি দিয়ে তার মুখ ও নাক চেপে ধরে। এতে কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্বাসরোধে মারা যায় তাবাচ্ছুম। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখে সে।

নৃশংস এই ঘটনার পর পরই খুনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলেও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ওই দিন রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামি আবু তাহের পুলিশের কাছে এবং পরবর্তীতে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে লোমহর্ষক জবানবন্দি দেয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। এরপর দ্রুততম সময়ে মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে গতকাল যুক্তিতর্ক শেষ হয়। মামলার একমাত্র আসামি আবু তাহের একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বাদেডিহি গ্রামে নিহত শিশু তাবাচ্ছুমদের বাড়ির পাশেই ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

একমাত্র কন্যাসন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর বাবা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন জানিয়েছেন, তাঁরা অভিযুক্ত আবু তাহেরের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসি চান; যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো লম্পটের হাতে কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়। সেই সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করায় আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাঁরা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের সব তথ্য-প্রমাণ ও ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছি। আমরা শতভাগ আশাবাদী, আজ আদালতের রায়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার পাবে এবং আসামির ফাঁসির আদেশ হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *