ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ না করায় যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও প্রশ্ন বাড়ছে। চুক্তির শর্তাবলি গোপন রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে হোয়াইট হাউজ।
বিভিন্ন খসড়া নথি গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে ট্রাম্প প্রশাসন। সেখানে দুই শীর্ষ কর্মকর্তা সমঝোতা স্মারকের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তারা জানান, চুক্তির আওতায় ইরানকে তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য করা হয়নি।
স্মারক অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম মজুতের বিষয়টি নিয়ে আগামী দুই মাসের মধ্যে পৃথক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে ইরানের ভেতরেই উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে নিম্নমাত্রায় রূপান্তরের সম্ভাব্য প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরেনিয়াম মজুতের গুরুত্ব তুলনামূলকভাবে কমিয়ে দেখান। তিনি দাবি করেন, ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির কারণে ওই মজুত বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় নেই এবং সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সংরক্ষিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভবিষ্যতে পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ফলে আগামী দুই মাসের আলোচনা আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

