ইংলিশ চ্যানেলের কাছে একটি ব্রিটিশ পতাকাবাহী ইয়টকে পথ পরিবর্তনের সতর্কতা দিতে রুশ যুদ্ধজাহাজের গুলিবর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি ঘটনাটিকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ এবং ‘বেপরোয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার একটি ব্রিটিশ দম্পতিকে বহনকারী ‘ব্রাইট ফিউচার’ নামের ইয়টকে ঘিরে এ ঘটনা ঘটে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইয়টটি তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচ’-এর সম্ভাব্য সংঘর্ষপথে ছিল। পরিস্থিতি এড়াতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় এবং পরে সতর্কতামূলক গোলাবর্ষণ করা হয়।
তবে ইয়টে থাকা ব্যক্তিরা রাশিয়ার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের বক্তব্য, নৌযানটি কোনোভাবেই সংঘর্ষের ঝুঁকিতে ছিল না এবং রুশ পক্ষের ব্যাখ্যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, সম্প্রতি রাশিয়ার একটি ট্যাঙ্কার জব্দের ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইউরোপজুড়ে রাশিয়ার কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এদিকে ঘটনার সময় ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘এইচএমএস মার্সি’ রুশ যুদ্ধজাহাজ ‘অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচ’-কে পর্যবেক্ষণ করছিল বলে জানা গেছে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

