জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখার (এলওসি) কাছাকাছি এলাকায় গত এক সপ্তাহের মধ্যে তিনটি পৃথক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্তত দুই জন সদস্য নিহত এবং একজন জুনিয়র কমিশন্ড অফিসারসহ (জেসিও) আরও ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবারের (১৬ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ভারতের অন্যতম শীর্ষ সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি । প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বশেষ বিস্ফোরণে ৪ ভারতীয় সেনা আহত হয়েছেন। এর আগের দুটি পৃথক ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হন। তবে সবশেষ বিস্ফোরণটির প্রকৃত কারণ বা ধরন এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
তবে সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে ঘটে যাওয়া তিনটি বিস্ফোরণই মূলত দুর্ঘটনাজনিত ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে রাজৌরি জেলার নওশেরা সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় সবশেষ বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। বিস্ফোরণে আহত ৪ সেনাসদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিমানযোগে উদমপুরে সেনাবাহিনীর কমান্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
“এর আগে গত ৯ জুন উরি সেক্টরের কামালকোট এলাকায় নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে একটি দুর্ঘটনাজনিত গ্রেনেড বিস্ফোরণে দুই সেনাসদস্য নিহত হন। নিহত জওয়ানরা হলেন— সোয়ার চাভান বিক্রম বালকৃষ্ণ এবং স্যাপার যাদব অর্জুন রাজেন্দ্র।”
উরি সেক্টরের ওই ঘটনার মাত্র তিন দিন পর, অর্থাৎ ১২ জুন পুঞ্চ সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে আরেকটি রহস্যময় বিস্ফোরণে আরও দুই সেনাসদস্য আহত হন। সেই বিস্ফোরণের প্রকৃতি নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে, কারণ সে সময়ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। এছাড়া গত রোববার পুঞ্চ জেলার মেনধার সেক্টরের বালাকোট এলাকায় নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলির খবরও পাওয়া গেছে।
সীমান্তের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই রাজৌরি জেলায় আত্মগোপনে থাকা সন্দেহভাজন উগ্রপন্থী ও জঙ্গিগোষ্ঠীর সন্ধানে গত তিন সপ্তাহ ধরে ‘অপারেশন শেরাওয়ালি’ নামে যৌথ বাহিনীর একটি বড় ধরনের চিরুনি অভিযান চলছে।

