অবশেষে এলো সেই বহু প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। ম্যাচের প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই মাঠজুড়ে যার পায়ের জাদুর অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছিলেন কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী, সেই লিওনেল মেসিই আলবিসেলেস্তে শিবিরে এনে দিলেন কাঙ্ক্ষিত উল্লাস। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচের ১৭তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ফিল্ড গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়েছেন এই মহাতারকা।
লুসাইল স্টেডিয়ামের এই ম্যাচটি আর্জেন্টাইন অধিনায়কের ক্যারিয়ারের এক অনন্য মাইলফলক। এটি মেসির ক্যারিয়ারের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। একই সঙ্গে বৈশ্বিক ফুটবল মঞ্চে এটি তার ১৪তম গোল, যা ফুটবল ইতিহাসে তার শ্রেষ্ঠত্ব ও অসাধারণ উপস্থিতির প্রমাণ আরও একবার বিশ্ববাসীর সামনে মেলে ধরল।
তবে ম্যাচটির শুরুটা ছিল বেশ নাটকীয়তায় ভরপুর। ম্যাচের মাত্র পঞ্চম মিনিটেই প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে বল জালে পাঠিয়েছিলেন মেসি। গ্যালারিতে তখন আকাশছোঁয়া উল্লাস। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই ম্লান হয়ে যায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) এবং সহকারী রেফারির অফসাইডের পতাকায়। রিপ্লেতে দেখা যায়, অত্যন্ত সামান্য ব্যবধানে অফসাইডে পজিশনে ছিলেন মেসি, ফলে বাতিল হয় সেই সম্ভাব্য গোলটি।
আর্জেন্টিনার গোল বাতিলের কিছুক্ষণ পরই একই রকম হতাশার স্বাদ পেতে হয় আলজেরিয়াকেও। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দুর্দান্ত এক আক্রমণে তারা আর্জেন্টিনার জালে বল জড়ালেও লাইন্সম্যানের অফসাইডের ইশারায় গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন ম্যাচ অফিশিয়ালরা। “ম্যাচের প্রথমভাগেই দুই দলের দুটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়ায় মাঠের উত্তেজনা রূপ নেয় চরম নাটকীয়তায়।”
অবশেষে ম্যাচের ১৭তম মিনিটে আর কোনো ভুল করেননি ফুটবল জাদুকর। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থদের চমৎকার পাসিং ও দারুণ সমন্বয়ে তৈরি হওয়া আক্রমণকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে রূপ দেন মেসি। আলজেরিয়ার গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়াতেই গ্যালারিতে শুরু হয় চেনা গর্জন। মাঠজুড়ে তখন দেখা যায় দুই হাত উঁচিয়ে মেসির সেই পরিচিত ও আবেগঘন উদযাপন।
আজকের গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই মাঠে নেমেছে আলবিসেলেস্তেরা। আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে গোলপোস্ট সামলানোর দায়িত্বে আছেন বিশ্বস্ত গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। রক্ষণভাগে প্রাচীর গড়েছেন গঞ্জালো মন্তিয়েল, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও ফাকুন্দো মেদিনা। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন রদ্রিগো দি পল, এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। আর আক্রমণভাগে প্রতিপক্ষকে চূর্ণ করার দায়িত্বে মেসির সঙ্গী হয়েছেন থিয়াগো আলমাদা ও লাওতারো মার্তিনেজ।
ম্যাচের শুরু থেকেই অতি আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিচ্ছে আর্জেন্টিনা। মেসির এই চোখধাঁধানো গোলের পর দলের আত্মবিশ্বাস যেন আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। অন্য দিকে, প্রথমার্ধেই গোল হজম করে ম্যাচ সমতায় ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে আলজেরিয়া।

