শিয়া মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘ঈদুল গাদির’ উপলক্ষে এক অভূতপূর্ব মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান সরকার। দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি ২ হাজারেরও বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সাজা সম্পূর্ণ মওকুফ অথবা হ্রাস করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি ইরানের সরকারি গণমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি এজেইয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ অনুরোধ এবং যোগ্য বন্দিদের একটি তালিকা সর্বোচ্চ নেতার কাছে পেশ করা হয়েছিল। এর পরিপ্রক্ষিতেই তিনি এই সাধারণ ক্ষমার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। এই বিশেষ ক্ষমার আওতায় অনেক বন্দি তাৎক্ষণিকভাবে কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন এবং বাকিদের শাস্তির মেয়াদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হবে।
ধর্মীয় উৎসবের এই সাধারণ ক্ষমার ক্ষেত্রে কিছু কঠোর শর্তারোপ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিরা কোনোভাবেই এই ক্ষমার আওতাভুক্ত হবেন না। এর মধ্যে রয়েছে:
• দেশের অভ্যন্তরীণ ও জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধ
• অস্ত্র ও সশস্ত্র চোরাচালান
• বিদেশি শক্তির হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি বা রাষ্ট্রদ্রোহিতা
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই সাধারণ ক্ষমার বিষয়টিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। মূলত গত ডিসেম্বর মাস থেকে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ইরানজুড়ে ব্যাপক গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। সেই সময় বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নেয় প্রশাসন এবং হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে চলমান তীব্র অর্থনৈতিক চাপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক ও নৌ নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে। এমন এক অস্থিতিশীল ও সংবেদনশীল পরিস্থিতির মাঝেই ধর্মীয় উৎসবকে সামনে রেখে সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক বন্দির মুক্তি ও সাজা লাঘবের এই সিদ্ধান্তকে জনগণের ক্ষোভ প্রমন এবং অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি শান্ত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

