কোরবানির ঈদ মৌসুমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনামে এসে তুমুল আলোড়ন তৈরি করেছিল অ্যালবিনো জাতের একটি বিরল মহিষ। মার্কিন প্রেসিডেন্টের আদলে সোনালি পশম আর বিশেষ অবয়বের কারণে খামারিরা ভালোবেসে এর নাম রেখেছিলেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। তবে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত অবিক্রীত থেকে যাওয়া এই মহিষটির বর্তমান ঠিকানা হয়েছে জাতীয় চিড়িয়াখানা। কিন্তু সেখানে যাওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় যথাযথ তদারকি ও যত্নের অভাবে প্রাণীটি এখন কঙ্কালসার ও মলিন রূপ ধারণ করেছে।
সম্প্রতি চিড়িয়াখানায় এই আলোচিত মহিষটিকে দেখতে গিয়ে দর্শনার্থীদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। বাবু দেওয়ান নামের এক দর্শনার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মহিষটির বর্তমান করুণ দশার ছবি পোস্ট করে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি লেখেন, “এই ছবিটি আমাদের বুঝিয়ে দেয় আমাদের জীবনে প্রকৃত অভিভাবকের গুরুত্ব কতখানি। মহিষটি যখন তার খামারি মালিকের কাছে ছিল, তখন তার বাহ্যিক রূপ ছিল দেখার মতো। খামারে তাকে নিয়মিত গোসল করানো, পুষ্টিকর খাবার দেওয়া এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্টাইলে চুল পর্যন্ত আঁচড়ে দেওয়া হতো। সারা বিশ্বে তার সেই ধবধবে নাদুস-নুদুস রূপ প্রশংসিত হয়েছিল।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে আরও অভিযোগ করা হয়, সরকারি সিদ্ধান্তে মহিষটিকে চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরের পর থেকেই তার যত্ন কমতে থাকে। এমনকি প্রাণীর জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের বিশাল অংশ গায়েব হয়ে যাওয়ারও অভিযোগ তুলেছেন দর্শনার্থীরা। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই বিরল প্রাণীটিকে দেখতে চিড়িয়াখানায় ভিড় করলেও, মাত্র ১০ দিনের অবহেলায় তার ট্রেডমার্ক চুল, সোনালি পশম ও চোখের চেনা চাহনি হারিয়ে গেছে। নিয়মিত গোসল না হওয়ায় ধবধবে সাদা চামড়া মলিন ও নোংরা হয়ে পড়েছে।
সচেতন মহল ও পশুপ্রেমীদের দাবি, চিড়িয়াখানার এই অবহেলার চেয়ে প্রাণীটিকে তার আগের খামারির কাছে ফিরিয়ে দেওয়া অথবা কোনো উন্মুক্ত খামারে মহিষের পালের সঙ্গে থাকার ব্যবস্থা করা উচিত। অন্যথায়, যথাযথ যত্নের অভাবে এই বিরল জাতের মহিষটি অকালেই প্রাণ হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

